Logo

এই দেশে সবাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে চায়ের দোকানে, ফেসবুকে, ওয়াজে, টকশোতে সব জায়গায়

আমরা সবাই সৎ মানুষ। শুধু ফাইল সই করার সময় একটু অসৎ, চাকরি দেওয়ার সময় একটু অসৎ, টেন্ডার দেওয়ার সময় খুব অসৎ। এই দেশে ঘুষ খাওয়া মানুষ লজ্জা পায় না, কিন্তু ঘুষ না দেওয়া মানুষকে সবাই প্রশ্ন করে— “তুমি কি বোকা নাকি?” আমরা বলি— “দেশটা ঠিক হবে না।” কিন্তু আমরা চাই—আমার কাজটা আগে হোক আমার লোকটা ঢুকুক আমার ফাইলটা ওপরে যাক দেশটা পরে দেখব। আমরা দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করি, যতক্ষণ না তারা আমাদের কাজটা করে দেয়। কাজ হয়ে গেলে তারা “ভালো মানুষ” হয়ে যায়। এই দেশে দুর্নীতি এতটাই স্বাভাবিক যে যে সৎ থাকে, তাকেই সন্দেহ করা হয়— “এ লোকটা কিছু একটা লুকাচ্ছে।” সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার কী জানেন?এই দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো— একটা দীর্ঘশ্বাস। আমরা আর চিৎকার করি না,প্রতিবাদ করি না, শুধু বলি— “এটাই বাংলাদেশ।” না ভাই, এটাই বাংলাদেশ না। এটা আমরা।

1 min read

New Book: Days and Nights in the Forest

Sunil Gangopadhyay

Novel

Days and Nights in the Forest

ফ্রি হলো সবচেয়ে পুরোনো কৌশল

যখন কোন কিছু বিনামূল্যে পাওয়া যায়, বুঝে নিও তার জন্য অনেক বড় মূল্য দিতে হবে। নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ট টু টু একবার বলেছিলেন, 'যখন মিশনারীরা আফ্রিকায় এসেছিল, তখন তাদের বাইবেল ছিল এবং আমাদের জমি ছিল' । তারা বলল, 'আমরা আপনার জন্য দোয়া করতে এসেছি'। আমরা চোখ বন্ধ করেছি, যখন খুললাম তখন আমাদের হাতে বাইবেল ছিল, আর তাদের হাতে আমাদের জমি ছিল । একইভাবে যখন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট এলো। তখন তাদের ফেসবুক - হোয়াটসঅ্যাপ ছিল, আর আমাদের ছিল স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা। তারা বলেছিল 'এটা বিনামূল্যে'। আমরা চোখ বন্ধ করেছিলাম এবং যখন খুললাম তখন আমাদের ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ আছে এবং তাদের কাছে আমাদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত তথ্য আছে। যখনই কোন কিছু ফ্রী পাওয়া যায় তখনই তার মূল্য আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে দিতে হয়। "জ্ঞান থেকে শব্দ বোঝা যায়, অভিজ্ঞতা থেকে অর্থ বোঝা যায়"

1 min read

বাঙালি সহজ একটি জিনিসকে অকারণে জটিল করে ফেলে

বাঙালি সহজ একটি জিনিসকে অকারণে জটিল করে ফেলে। বেড়াল মারা মানে, বেড়াল (cat) ধরে এনে হত্যা করতে হবে না। বেড়াল মারা মানে, নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা। এ বিষয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। দুই বন্ধু খুব গরীব। পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। ঠিকভাবে খেতেও পায় না। কি করবে, বুঝতে পারছে না। এমন সময়ে একটি ঘোষণা শুনতে পেলো। রাজার দুই মেয়ে নিজের জন্য এমন বর চাচ্ছে, যারা প্রতিরাতে ১০ বার চাবুকের আঘাত নিতে রাজী আছে। রাজার মেয়েদের এই অদ্ভূত দাবী শুনে, কেউই তাতে রাজী হয়নি। তবে, এই দুই গরীব বন্ধু রাজী হলো। বিয়ের পরে, দুই এক সপ্তাহ বেশ ব্যস্ত কাটলো। এর পরে দুই বন্ধু সুখ-দুঃখের আলাপ করেছে। প্রতিরাতে কখন চাবুক মারে, জোরে মারে কিনা, এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো। এই প্রশ্ন শুনে অপর বন্ধু বলল - আমারে তো চাবুক মারে না। অবাক হয়ে, বন্ধু কারণ জানতে চাইলো। তখন সেই বন্ধু বলেছে - প্রথম রাতে খাবার টেবিলের পাশে একটি বেড়াল ঘোরাফেরা করতে দেখেছি। হঠাৎ বেড়ালটি আমার প্লেটের পাশে চলে এলো। আমি তলোয়ার বের করে, এক কোপে বেড়ালটি মেরে ফেললাম। এটা দেখে হয়তো ভয় পেয়েছে। আমারে চাবুক মারে না। এই ঘটনা শুনে আরেক বন্ধু মনে মনে ভাবছে, প্রতিদিন বেড়াল আসে, আজকে বেড়ালকে মারতে হবে। রাতে খাবার টেবিলে, বন্ধুর পরামর্শ মতন, সেও আরেকটি বেড়াল মেরে ফেললো। এটা দেখে তার বউ রেগে অস্থির - তুমি আমার বেড়াল মারলে কেন? আজকে থেকে তোমাকে ১৫ বার চাবুক মারা হবে। চাবুক মারা বেড়ে যাওয়াতে, সে বন্ধুর কাছে গিয়ে বলেছে - তোমার পরামর্শ মতন বেড়াল মেরে, চাবুক তো বেড়ে গেল !! তখন বন্ধু উত্তর দিলো - প্রথম রাতেই বেড়াল মারতে হয় (পরে মারলে কাজ হয় না)। এটা একটি রূপকথা হলেও, এর শিক্ষা বাস্তব জীবনে খুব কার্যকর। বেশিরভাগ পুরুষ একটি ভুল করে - তারা মনে করে, নতুন বউ, ধীরে ধীরে শিখে যাবে। আসলে, বউ কোনদিনই শিখবে না। বউকে প্রথমেই শেখাতে হবে, পরে শেখে না। কি শেখাবেন? বউ নতুন থাকতেই আপনার পছন্দ-অপছন্দ তাকে শিখিয়ে দিন। পরে কোনদিনই শেখানো যায় না। প্রথমেই শেখান। এটাই আসলে বেড়াল মারা - নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত করা।

2 min read

নিষেধের ফল: নৈতিকতা নয়, ভণ্ডামি

বিশ্বে মদ্যপানে সৌদি আরবের লোকেরা এক নম্বরে। কারণ, তাদের নিজের দেশ সৌদি আরবে মদ্যপান নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পর্ণগ্রাফী দেখায় পাকিস্তানীরা এক নম্বরে। কারণ, পাকিস্তানে পর্ণগ্রাফি দেখা নিষিদ্ধ। অন্যদিকে জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস গাঁজা সেবনে বিশ্বের প্রথম ২০ টা দেশের তালিকায় নাই। কারণ, এই দুই দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গাঁজা সেবন আইনগত বৈধ। বাংলাদেশে ইন্টারনেটে যে কোনো গুজব, মিথ্যাচার, এবং ফালতু কনটেন্ট বানিয়ে কোটি কোটি মানুষকে ব্যস্ত রেখে, লক্ষ লক্ষ ভিউ এবং হাজার হাজার ডলার কামানো সম্ভব। কারণ, বাংলাদেশে কমনসেন্সের ব্যবহার নিষিদ্ধ। বাঙালি সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থায় জনগণকে শেখানোই হয়না, কোন্ জিনিসটাকে ইগনোর করতে হয়, আর কোনটাকে গুরুত্ব দিতে হয়। ফালতু আর নোংরা জিনিসকে ঘেঁটে দেখার সীমাহীন আগ্রহ বাঙালির জন্মগত চরিত্র। বাঙালি কোনো কিছু না-ঘেঁটে বুঝতেই পারে না, জিনিসটা আসলে 'গু' ছিলো।

1 min read

বাঙালি: নীতির কথা বলে, সুবিধার পথে হাঁটে

বাঙালির বিনোদন প্রায়ই কাউকে অপমান করার মধ্যেই শেষ হয়। সে সুশাসনের কথা বলে, কিন্তু ভোট দেয় সুবিধা দেখে। ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি তোলে, আবার ভিন্ন ধর্ম দেখলেই তেড়ে ওঠে। বাঙালি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ চায়, কিন্তু বিদেশি লোগো ছাড়া বিশ্বাস করে না। বাংলা ভাষাকে ভালোবাসার কথা বলে, আর লিখে— “Ki koiro mama?” সে ভালো মানুষ হতে চায়, কিন্তু ‘ভালো’ মানে তার কাছে রঙ, বংশ আর টাকা। কবিকে ভালোবাসে—শুধু কবি মারা গেলে। জীবিত কবি হলে সে নাস্তিক, পাগল, বা অপ্রয়োজনীয়। ধর্ম মানে, কিন্তু সুবিধামতো। এক হাতে তসবিহ, অন্য হাতে সব নিষেধের তালিকা ভাঙার লাইসেন্স। নেতাকে গালি দেয় সারাবছর, আর ভোটের সময় মাথা নিচু করে সালাম দেয়। এই বাঙালি— যে শহীদ মিনারে ফুল দেয়, আর পরদিন বই ছিঁড়ে মুড়ে বাজারে যায়। এমন জাতি শুধু টিকে থাকে, কিন্তু সত্যিকারের বাঁচার সাহস কখনও শেখে না।

1 min read